ফেসবুকে ব্যবসায় প্রচারের কমন কিছু ভুল
সকল বান্ধবীদের একের
পর এক
পেইজ খুলতে
দেখে নাদিয়ার
মনে উকি
দেয়া শুরু
করে একটি
ফেসবুক পেইজ
খোলার ইচ্ছা। যেই
ভাবা সেই
কাজ, গুগল
থেকে একটি
লোগো নামিয়ে
মোবাইলে নাম
বসিয়ে শুরু
হয়ে গেল
নাদিয়ার পেইজ। স্বপ্ন
এখন উড়ু
উড়ু, কিন্তু
মন করছে
দুরু দুরু। আশঙ্কা,
ভয় এবং
আশার একই
অদ্ভুত রঙে
রাঙানো সকল
উদ্যোক্তার স্বপ্ন। তবে তিন
মাস যেতে
না যেতেই
ঘটনা মোড়
নেয় অন্যদিকে। আসুন
জানি নাদিয়া
কি হতে
পারবে লাখপতি
আপু, নাকি
হারিয়ে যাবে
মৌসুমি উদ্যোক্তাদের
ভিড়ে!
ঘটনা ১
পেইজে কয়েক দফা
ছবি আপলোড,
বন্ধু বান্ধব
এবং আত্মীয়
স্বজনকে ইনভাইট
করে নাদিয়া
দেখল পেইজে
টুকটাক লাইক
ঠিক ই
বাড়ছে কিন্তু
সেলের হিসেব
শূন্য।
ম্যাসেজে অনেকে
দাম বিস্তারিত
জানতে চায়
ঠিক ই
কিন্তু কথা
আর আগায়
না।
এমন সময়
নাদিয়া একটি
বিজ্ঞাপন দেখতে
পায়, “৫,০০০ লাইক
৭০০ টাকা”
“নিজের বুস্ট
নিজে করুন,
ডলার রেইট
৮৪ টাকা
মাত্র”।
নাদিয়া ভাবল
খারাপ তো
না, লাইক
তো কেনাই
যায়, বুস্ট
করেও দেখা
যাক ফলাফল
কি হয়।
ফলাফলঃ
নাদিয়ার পেইজে লাইকের
পরিমাণ এখন
৪,০০০। গত
সপ্তাহেও ৫,০০০ ছিল। পোস্ট
দিলে ৪-৫ টা লাইকের বেশি
পাওয়া যায়
না।
কমেন্ট কালে
ভাদ্রে একটা। বুস্টের
জন্য ভাল
পরিমাণ টাকা
নিলেও ফলাফল
আশানুরূপ নয়। ৫
ডলার বুস্টের
কত ডলার
খরচ হল
কিছুই বুঝতে
পারল না
নাদিয়া।
“রাত জাগা
পাখি” “অতৃপ্ত
ভালবাসা” ইত্যাদি
নামের আইডি
থেকে পেইজে
ম্যাসেজ এসেছিল
কিছু সেল
হয়নি, আগের
কাস্টমারই আবার অর্ডার করেছে।
বুস্টের উপর
থেকে ভরসা
উঠে গেছে
নাদিয়ার।
ভাবছে, কি
করা যায়। আচ্ছা
লাইভ করে
সেটা গ্রুপে
গ্রুপে শেয়ার
দিলে লাভ
হবে কি?
ভাবতে ভাবতে
বুক ভরা
স্বপ্ন নিয়ে
ঘুমাতে যায়
নাদিয়া।
নাদিয়ার ভুল এবং
করনীয়
১। পেইজ
খুলে আত্মীয়
স্বজন এবং
বন্ধু বান্ধবের
ইনভাইট করার
পাশাপাশি সোশ্যাল
প্রুফ এর
জন্যে প্রয়োজন
পেইজের লাইক। আমি
আপনি কেউ
৫০-৪০
লাইক সহ
পেইজ থেকে
কেনার আগে
অনেক বার
ভাবব তাই
না? নাদিয়ার
প্রথম ভুল
নিজের পেইজকে
শুধু পরিচিতদের
মাঝেই সীমিত
রাখা।
তাই নতুন
পেইজ খুলে
পোস্ট সেল
করার জন্যে
বুস্ট না
করে আগে
পেইজের লাইকের
জন্যে বুস্ট
করতে হবে। তবে
সেটাও হতে
হবে যথাযথ
অডিয়েন্স এর
কাছে, যাদের
আপনার পেইজ
থেকে কিছু
ক্রয় করার
সম্ভাবনা আছে।
২। “৫,০০০ লাইক
৭০০ টাকা”
এ ধরণের
বিজ্ঞাপগুলো তে পেইজের খারাপ থেকে
ভাল কিছু
হয় না। কারণ
এই বাল্ক
লাইক গুলো
প্রকৃত অ্যাকাউন্ট
থেকে আসে
না।
যার কারণে
পেইজে এঙ্গেজমেন্ট
হয় না
এবং লাইকগুলো
ধীরে ধীরে
কমতে থাকে। নাদিয়া
একজন নতুন
উদ্যোক্তা এবং এটা না জানাই
তার জন্যে
স্বাভাবিক।
কিন্তু সরল
মনে বিশ্বাস
না করে
একটু যাচাই
করে নেয়া
দরকার ছিল। যেকোন
সার্ভিস প্রভাইডার
এর পেইজের
কন্টেন্ট কেমন,
ওয়েবসাইট আছে
কিনা, পেইজে
রিভিউ কেমন
এ সকল
বিষয় দেখে
সার্ভিস নিবেন। এবং
সব সময়
রিপোর্ট বা
রেজাল্ট দেখে
নিবেন।
অনেকেই ১০
দিন বুস্টের
কথা বলে,
৭ দিন
করে বন্ধ
করে দেয়
এবং আরও
অনেক কিছু। নাদিয়ার
ভুল হয়েছিল
সে পরখ
করে নেয়নি
সার্ভিস দাতারা
কেমন ছিল।
৩। নাদিয়া
এখন মনে
মনে ভাবছে
লাইভ করে
সেটা গ্রুপে
গ্রুপে শেয়ার
দিলে কেমন
ফলাফল হবে,
কিন্তু এখানেও
সে যদি
একটু খোঁজ
খবর না
নিয়ে এগিয়ে
যায়, নাদিয়া
অচিরেই হারাতে
পারে তার
স্বপ্নের পেইজ। কি
হবে যদি
আপনি বিভিন্ন
গ্রুপে গণহারে
আপনার লাইভ
শেয়ার করেন?
জানব এর
পরের পর্বে।
সেদিন পেইজে হঠাৎ
একজন ম্যাসেজ
দিল, “আপি
আমাদের থেকে
লাইভ শেয়ার
নিতে পারেন। ১০০
লাইভ শেয়ার
৫০ টাকা,
১০০ কমেন্ট
৩০ টাকা,
আপি লাগলে
বইল।”
এত আদুরে
ম্যাসেজ দেখে
নাদিয়া প্রোফাইলে
না গিয়ে
পারল না। নাম
মেহনাজ তাবাসসুম,
প্রোফাইল পিকচারে
খুব সাজগোজ
করা একটা
মেয়ের ছবি,
প্রোফাইল লক। নাদিয়া
ভাবল, একবার
তো ৫
ডলারের বুস্ট
করলাম, করে
কোন লাভই
হল না,
এবার লাইভ
করে সেটা
শেয়ার করে
দেখা যেতে
পারে ফলাফল
কেমন হয়। যেই
ভাবা সেই
কাজ, অতঃপর
লাইভের দিন
তারিখ পাকা
করে নাদিয়া। ১৫০
টাকায় ২৫০
শেয়ার এবং
২০০ কমেন্টের
ছুক্তি হয়
মেহনাজ তাবাসসুম
আই ডি
এর সাথে,
পেমেন্ট কাজের
পরে।
খুব সুন্দর
করে হালকা
মেক আপ
নিয়ে তৈরি
নাদিয়া, প্রথম
লাইভ, ভেতরে
একটা ভয়
কাজ করছে
কিন্তু ভয়
কে জয়
করতে হবে। এতগুলো
টাকার বিনিয়োগ
বলে কথা।
লাইভ শুরু হল। নাদিয়ে
দেখতে পাচ্ছে
তার লাইভ
শেয়ার হচ্ছে
বিভিন্ন আই
ডি দিয়ে। সবগুলোই
মেয়েদের আইডি। মনে
আশা জাগতে
থাকে নাদিয়ার। এবার
বুঝি কিছু
একটা হবে। শুরু
হয় কমেন্ট
আসা।
“নাইস”, “প্রাইস”
“পিপি”, সুন্দর,
ওয়াও আপি,
স্টিকার কমেন্টে
ভরে যাচ্ছে
নাদিয়ার লাইভ। শেয়ার
বাড়ছে, কমেন্ট
বাড়ছে, কিন্তু
বাড়ছে না
কোন ভিউ। বাড়লেও
কমে যাচ্ছে
কিছু সময়ের
মধ্যেই।
লাইভে স্ক্রিনশট
নিয়ে ম্যাসেজ
করার কথা
বার বার
বলছে কিন্তু
কেউ তো
ম্যাসেজ করছে
না।
সন্দেহ গাড়
হতে থাকে
নাদিয়ার।
কষ্ট করে
লাইভ শেষ
করে নাদিয়া। শেয়ারের
সংখ্যা ২৫২,
কমেন্ট ২০২।
কোথায় শেয়ার হল
দেখতে ক্লিক
করে নাদিয়া। শুধু
৭টা শেয়ার
দেখা যাচ্ছে,
তাও বিভিন্ন
গ্রুপে।
লাইভ শেয়ার
কমিউনিটি, বাই সেল বাজার উত্তরা,
বিউটি অ্যান্ড
মেক আপ
লাইভ ইত্যাদি
নামে গ্রুপে
ভিন্ন ভিন্ন
আইডি দিয়ে
লাইভ গুলো
শেয়ার করা। নাদিয়া
ঘেটে দেখল
কোন প্রোফাইলই
রিয়েল না। মন
খারাপ করে
পেইজের ম্যাসেজ
চেক করে
নাদিয়া।
কোন ক্রেতার
ছায়া নেই। শুধু
আছে মেহনাজ
তাবাসসুম আই
ডি থেকে
আসা কমেন্ট
এবং লাইভ
শেয়ারের কিছু
স্ক্রিনশট।
কিছু একটা
বলা দরকার।
নাদিয়াঃ কোন অর্ডার
তো হল
না!!
মেহনাজঃ আপি, লাইভটা
তো মাত্র
শেয়ার হল। আজকের
দিনটা যাক,
অর্ডার ভিউ
সব আসবে। চিন্তা
কইরেন না।
নাদিয়াঃ ভিউ তো
তেমন হল
না লাইভের। সেটা
কেন?
মেহনাজঃ আমরা তো
ভিউ এর
কথা বলিনি,
বলেছি শেয়ার
এবং কমেন্টের
কথা।
সেটা তো
ঠিক আছে,
তাই না?
বিকাশ করে
দিয়েন আপু। TC.
কিছু কমেন্টের উত্তর
দিয়ে ঘুমিয়ে
পরে নাদিয়া। পরদিন
সকালে একটা
নোটিফিকেশন দেখে ঘাবড়ে যায় নাদিয়া। “Your Page Has Been Unpublished” পেইজের নাম
লিখে সার্চ
দিয়ে, লিঙ্ক
ক্লিক করে
কিছুতেই খুঁজে
পাচ্ছে না
নিজের কষ্টে
গড়া পেইজটা। ছোট
বোনের আইডি
থেকেও নেই।
কিছুই বুঝতে উঠতে
পারছে না
নাদিয়া।
কেন এমন
হল, কিভাবে
হল।
এখন সে
কি করবে!
নাদিয়া কি
পারবে তার
আনপাবলিশ হয়ে
যাওয়া পেইজ
ফিরত আনতে?
নাকি এখানেই
সমাপ্তি হবে
তার স্বপ্নের।
নাদিয়ার ভুল এবং
করনীয়
নাদিয়ার ভুল হয়েছে
গণ লাইভ
শেয়ারের সার্ভিসটি
নিয়ে।
অনলাইন ব্যবসায়
এ লাইভ
করার প্রবণতাকে
পুঁজি করে
গড়ে উঠেছে
এই “সার্ভিস।” যেখানে
একাধিক ফেইক
আই ডি
থেকে গনহারে
লাইভ শেয়ার
করা হয়
বিভিন্ন গ্রুপে। গ্রুপগুলো
নিজেদের তৈরি
করা থাকে
এবং কিছু
থাকে বাই
সেল গ্রুপ। যেখানে
মেম্বারের সংখ্যা অনেক, ক্রেতার সংখ্যা
শূন্য।
এই ধরণের
গণ লাইভ
শেয়ার থেকে
শুধু শেয়ারের
পরিমাণ বাড়ে। কিন্তু
বাড়ে না
তেমন ভিউ,
অর্ডার তো
পরের কথা।
ফেসবুকের অ্যালগরিদম অনুযায়ী
এরকম প্র্যাকটিসকে
বলা হয়
স্প্যামিং।
যখন কোন
পেইজ থেকে
প্রতিনিয়ত এরকম করা হয় তখন
ফেসবুক ধরে
নেয় পেইজটি
স্প্যামিং করছে। এক পর্যায়ে
ফেসবুক পেইজটিকে
আনপাবলিশ করে
দেয় কারণ
এটা তাদের
কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড
এর বাইরে। শুধুমাত্র
লাইভের শেয়ারের
পরিমাণ বাড়ানোর
জন্য নিজের
কষ্ট করে
তিলে তিলে
গড়ে তোলা
পেইজটিকে হুমকির
মুখে না
ফেলাই ভাল।
গণ লাইভ শেয়ার
না করে
নাদিয়া যদি
পেইজের সদেস্যদের
লাইভ শেয়ারে
অনুপ্রাণিত করে কোন ডিসকাউন্ট বা
গিফটের কথা
বলে, তাহলে
তার পেইজের
এই ক্ষতি
হত না। স্বাভাবিকভাবে
রিয়েল অ্যাকাউন্ট
দিয়ে লাইভ
শেয়ার হলে
এবং কমেন্ট
করলে লাইভের
রিচ অনেক
বেড়ে যায়। তাই
কোন ভাবেই
লাইভ এর
শেয়ার বা
কমেন্ট কিনে
টাকা পানিতে
ফেলবেন না।
প্রফেশনালি যারা লাইভ
করে বা
সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার,
তাদের সাহায্য
নিয়ে লাইভ
করলে এর
থেকে ভাল
ফলাফল পাওয়া
সম্ভব এবং
পেইজের ক্ষতি
হওয়ার সম্ভাবনা
কম।
আজ যাচ্ছি তবে
যাচ্ছি না,
আসছি আবার
ফিরে।
আগামী পর্বে
দেখব নাদিয়া
কি পারবে
তার আনপাবলিশ
হয়ে যাওয়া
পেইজ ফিরত
আনতে? নাকি
এখানেই সমাপ্তি
হবে তার
স্বপ্নের।
সকাল থেকে কিছুই
খেতে পারছে
না নাদিয়া। কি
জানি কি
হয়ে গেল,
শখের পেইজটা
চলে গেল!
শুধুমাত্র গণ লাইভ শেয়ারের কারণে
এভাবে নিজের
কষ্টের পেইজটা
হারানোটা নাদিয়া
মেনেই নিতে
পারছে না। আনপাবলিশ
করে দেয়া
পেইজ কিভাবে
ফেরত আনা
যায় টা
নিয়ে ঘাঁটতে
শুরু করল
নাদিয়া।
একটা গ্রুপে
লম্বা বিস্তর
একটি পোস্ট
লেখে নাদিয়া,
তাও মনের
কষ্টটা যদি
কমে! গ্রুপের
কমেন্টে অনেকেই
লিখল-
“আপু পেইজটা আর
পাবেন না”
“ফেসবুক সাপোর্ট এ
ম্যাসেজ দিন”
“চেক ইনবক্স”
ইনবক্স এ গিয়ে
নাদিয়া যে
সকল ম্যাসেজ
পেল তার
কিছু উদাহরণঃ
“পেইজ এনে দেয়া
যাবে।
১০ হাজার
টাকা লাগবে। আমরা
ফেসবুক সাপোর্ট
এর সাথে
আপনার হয়ে
কথা বলে
পেইজ ফিরত
নিয়ে আসব। ১
সপ্তাহ সময়
লাগবে।
পেমেন্ট আগে
করে দিতে
হবে।”
“পেইজ সেইল অ্যালার্ট। ১০,০০০ লাইকের
একটি পেইজ
বিক্রি হবে। সাথে
৩ হাজার
মেম্বারের গ্রুপ ফ্রি। নিতে
চাইলে ম্যাসেজ
দিন”
“আপনি কি করেন?
কোথায় থাকেন?
দেখা করে
কথা বলতাম
ব্যাপারটা নিয়ে”
ইত্যাদি!
নতুন করে পেইজ
শুরু করার
কথা অনেকে
বললেও মানতে
চায় না
নাদিয়ার মন। নাদিয়া
ভাবল, একটু
রিস্ক নিয়ে
দুটি পদ্ধতিই
চেষ্টা করা
উচিত।
প্রথম জনের
সাথে ৫,০০০ হাজার
টাকার ডিল
হয় নাদিয়ার,
২,৫০০
টাকা এডভ্যান্স। দ্বিতীয়
জনের সাথেও
কথা আগিয়ে
রাখে সে,
প্রয়োজন হলে
নিবে।
এখন অপেক্ষার
পালা।
৩ দিন পর
প্রথম জনকে
ম্যাসেজ দেন
নাদিয়া।
দায়সারা জবাব।
“এত তাড়াতাড়ি হবে
না, রিভিউ
তে আছে”
৫ দিনের ম্যাসেজ
সিন হয়
না নাদিয়ার। ৭ম
দিনে ব্লক। ফেসবুক,
ম্যাসেজ এমনকি
ফোন নম্বরেও
কল ঢুকছেনা। মন
খারাপের চূড়ান্ত
পর্যায়ে চলে
গিয়েছে নাদিয়া,
হতাশা আর
অন্ধকার ছাড়া
কিছুই দেখছে
না সে। কোনভাবেই
আর কাউকেই
বিশ্বাস করতে
পারছে না
সে।
ভরসা উঠে
গেছে সবার
উপর থেকে।
প্রথমে লাইক কিনে
ক্ষতিগ্রস্ত হল।
গণহারে লাইভ শেয়ার
করে পেইজ
হারালো।
চেক ইনবক্স এর
পাল্লায় পরে
এখন সময়
এবং টাকা
দুই গেল।
উদ্যোক্তা হতে চেয়ে
যেন পাপ
করে ফেলেছে
সে! ইটস
টাইম টু
গিভ আপ,
মনে মনে
ভাবে নাদিয়া।
নাদিয়ার ভুল এবং
করনীয়
১। চেক
ইনবক্সের পাল্লায়
পড়াঃ কেউ
কোন সাহায্য
চাইলে তাকে
পার্সোনালি ম্যাসেজ পাঠানো মোটেই ভুল
কিছু নয়,
তবে এর
মাঝেই লুকিয়ে
থাকে অনেক
অসৎ উদ্দেশ্য। তাই
ইনবক্সে যতই
ভিড় হোক
না কেন,
যে যাই
বলুক না
কেন সব
সময় উচিত
সেই ব্যক্তি
বা প্রতিষ্ঠান
কে যাচাই
করে দেখা। যে
বিষয় গুলো
খেয়াল রাখতে
হবেঃ
- ব্যক্তি নাকি প্রতিষ্ঠানঃ
যে আপনার
সাথে যোগাযোগ
করতে চাচ্ছে
সে কি
কোন ব্যক্তি
নাকি প্রতিষ্ঠান। স্বাভাবিকভাবে
একজন ব্যক্তির
থেকে প্রতিষ্ঠান
বেশি নির্ভরশীল
হবে।
কারণ তাদের
পেইজের রিভিউ,
অফিসের ঠিকানা,
ওয়েবসাইট সব
কিছুর বিস্তারিত
থাকবে।
একজন ব্যক্তির
প্রোফাইলে সে যা শেয়ার করতে
চায় বা
দেখাতে চায়
শুধু সেটাই
থাকবে।
যা যাচাই
করা অসম্ভব
নয়, তবে
কঠিন।
তাই আগে
দেখে নিবেন
কার শরণাপন্ন
আপনি হচ্ছেন,
ব্যক্তি নাকি
প্রতিষ্ঠান।
- রিভিউঃ কোন প্রতিষ্ঠান
যদি আপনার
কাছে যেকোনো
সার্ভিস নিয়ে
আসে সেক্ষেত্রে
তাদের পেইজের
রিভিউ এর
অবস্থা দেখুন। শুধু
“নাইস সার্ভিস”
“ভেরি গুড
সার্ভিস” লেখা
থাকলেই হবে
না।
যে সকল
প্রোফাইল থেলে
রিভিউ এসেছে
সেগুল যাচাই
করুন।
কারণ ফেইক
রিভিউ ও
কিনতে পাওয়া
যায়।
রিভিউ যাচাই
করে আপনি
সিদ্ধান্ত নিবেন আপনি তাদের সাথে
আগাবেন কি
না।
- ব্যবহারঃ যারা সার্ভিস
দিতে চায়
তাদের সাথে
কথা বলবেন। তাদের
আন্তরিকতা বোঝার চেষ্টা করবেন।
যদি তাদের
ব্যবহার এবং
কমিউনিকেশন আপনার কাছে ভাল মনে
হয়, শুধু
তখনই অগ্রসর
হবেন।
- ফেসবুকের বাইরের জগতঃ
কোন প্রতিষ্ঠান
যদি সার্ভিস
দিতে আগ্রহী
থাকে একটু
গুগলে সার্চ
করে দেখবেন
তাদের ব্যাপারে
কি তথ্য
আছে।
এটা আবশ্যক
না হলেও
আপনাকে সিদ্ধান্ত
গ্রহণে সাহায্য
করবে।
ওয়েবসাইট, ম্যাপের অবস্থান, গুগল মাই
বিজনেস প্রোফাইল
ইত্যাদি দেখে
আপনি আঁচ
করতে পারবেন
তাদের কাজের
পরিধি।
ইনবক্সে বা কমেন্টে
কেউ তাদের
সার্ভিস দিতে
চাইলে উপরের
বিষয়গুলো দিয়ে
তাদের যাচাই
করবেন।
২। নিজের
জ্ঞান এর
পরিধি না
বাড়ানোঃ নাদিয়া
সকল সমস্যা
থেকে নিজেকে
বাঁচাতে পারত
যদি সে
নিজে বেসিক
কিছু ব্যাপারে
আগে থেকেই
জ্ঞান রাখত। তাহলে
বিভিন্ন মানুষের
কোথায় তাকে
প্ররচিত হতে
হত না। নিজ
দায়িত্বে অনেক
কিছু সামাল
দিতে পারত। তাই
সকল উদ্যোক্তাদের
উচিত এই
বিষয়গুলো সম্পর্কে
সাধারণ জ্ঞান
রাখা যাতে
কেউ তাদের
অজ্ঞতার সুযোগ
নিতে না
পারে।
একজন উদ্যোক্তার
সব কিছু
না পারলেও,
সব কিছু
জানতে হয়। নাদিয়া
হয়ত সেটা
একটু দেড়িতেই
বুঝতে পারল।
-------
কিন্তু নাদিয়া নিজেও
জানেনা আজ
থেকে ৫
মাস পর
তার পেইজ
হয়ে উঠবে
অত্যন্ত ব্যবসায়
সফল একটি
পেইজ।
অর্ডারের পরিমাণ
এতই হবে
যে একা
না পেরে
উঠে শুধু
ম্যাসেজের উত্তরের জন্যে দুই জন
কর্মী নিয়োগ
দিতে হবে
তাকে।
ফেসবুকের গণ্ডি
পেরিয়ে অন্যান্য
প্ল্যাটফর্মে থাকবে তার মুখর পদচারনা। ক্রমাগত
বাধা পাওয়া
তরুন উদ্যোক্তা
নাদিয়া হয়ে
উঠবে একজন
সফল উদ্যোক্তা। কিন্তু
কিভাবে?
জানব আগামী এবং
শেষ পর্বে।
শেষ পর্বঃ নাদিয়ার ঘুরে
দাঁড়ানো।
বড় একটা অর্ডার
এর ডেলিভারি
নিশ্চিত করে
স্বস্তির নিঃশ্বাস
ফেলে নাদিয়া। এই
মাসেও টার্গেটের
চেয়ে বেশি
সেইল।
এই নিয়ে
টানা তিন
মাস টার্গেটের
থেকে বেশি
সেইল হচ্ছে
নাদিয়ার।
বুস্টের রেজাল্ট
দেখার জন্য
অ্যাড ম্যানেজারে
একটু চোখ
বুলিয়ে নেয়
নাদিয়া।
লাইক, এঙ্গেজমেন্ট
এবং ম্যাসেজের
টোটাল ৬টি
আলাদা ক্যাম্পেইন
চলছে।
রেজাল্ট খারাপ
না।
তবে সে
একা বুস্ট
করছে না,
আরেকটি সার্ভিস
প্রভাইডার এর থেকেও সার্ভিস নিচ্ছে
সে।
নাদিয়ার পেইজের
ম্যাসেজ দেয়ার
জন্যে যাদের
রেখেছে, তারাই
সার্ভিস প্রভাইডার
কে ম্যাসেজ
পাঠায় রেজাল্টের
জন্যে, সাথে
সাথে রিপোর্ট
পাঠিয়ে দেয়
তারা।
তাদের ৩
টি ক্যাম্পেইনও
ভাল পারফর্ম
করছে।
ফোনটা হঠাৎ বেজে
ওঠে নাদিয়ার।
“নাদিয়া, কেমন আছো?
আচ্ছা কাল
কয়টা সময়
লাইভ করব?”
“এইত আপু আছি,
কালকে ১০
টার পর
করেন আপি,
বৃহস্পতি বার
তো, সবাই
একটু রাত
জাগবে”
“শুধু কি কান
আর গলার
প্রডাক্ট কাল
কে?”
“জী আপু, আর
একটা ড্রেসও
পাঠিয়েছি, মানাবে তোমাকে”
“হা হা, Thank you so much dear”
“ওকে আপু, রাখি
তাহলে”
প্রতি শুক্রবার রিফা
আপুকে দিয়ে
লাইভ করায়
নাদিয়া।
ভালই লাইভ
করেন উনি। প্রোডাক্ট
এর সম্পর্কে
ভাল মত
জেনে কথা
বলেন।
প্রোডাক্ট ভাল না লাগলে সোজা
না করে
দেয়।
ভালই রেস্পন্স
আসে, খারাপ
না।।
লাইভের কথা উঠলেই
আগের কথা
মনে পড়ে
যায় নাদিয়ার। ৫
মাস আগে
তার প্রথম
পেইজটা ব্যান
হয়ে গিয়েছিল
গণহারে লাইভ
শেয়ার করার
জন্য।
সেই শিক্ষার
পর থেকে
শক্ত হয়েছে
নাদিয়া।
নিজেই করেছে
ডিজিটাল মার্কেটিং
এর ব্যাপারে
পড়াশুনা।
২০০, ৬০০
টাকার কোর্স
থেকে বেশি
কিছু শেখার
মত সে
কিছু পায়নি,
তবে কয়েকটা
দামি কোর্স
থেকে সে
বেশ কিছু
শিখেছে।
তার সাথে
যোগ করেছে
নিজের উদ্যোগে
শেখার প্রচেষ্টা। আর
সার্ভিস প্রভাইডার
এখন খুব
বেছে বেছে
নেয় নাদিয়া। সব
কিছু পরখ
করে নেয়।
সেই ঘটনার পর
থেকে প্রফেশনাল
ভাবে নিজের
পেইজটিকে সাজায়
নাদিয়া।
নতুন লোগো,
ব্র্যান্ডিং, প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি সব কিছু
প্রফেশনালি করিয়েছে। নেট থেকে
নামিয়ে আর
কত, বেশির
ভাগ তো
তাই করবে। পেইজ
এবং গ্রুপে
রেগুলার পোস্ট
দেয়।
কখনো বিক্রয়ের
পোস্ট, কখনো
জামা যত্ন
নেয়ার টিপস
কখনো বা
মজার কিছু। ভালই
যাচ্ছে নাদিয়ার
উদ্যোগী জীবন। ভাগ্যিস
আশা ছেড়ে
দেয়নি।
নিজের মনের
জোরে এগিয়ে
চলেছে সামনের
দিকে।
নাদিয়া যেভাবে ঘুরে
দাঁড়ালোঃ
নিজের জ্ঞান বৃদ্ধিঃ
একজন উদ্যোক্তা
হিসেবে নাদিয়া
বাধ্য হয়েছে
তার কাজের
ব্যাপারে বিস্তারিত
শিখতে।
যাতে প্রয়োজনে
সে নিজেই
কাজগুলো করতে
পারে।
এবং এই
জ্ঞান বৃদ্ধির
মাধ্যমেই সে
বুঝতে পারবে
তার কি
করা উচিত
এবং কি
করা উচিত
না।
নাদিয়া এটাও
বুঝেছে যে
সস্তার তিন
অবস্থা।
২০০, ৬০০
টাকার কোর্সগুলো
থেকে সে
ভাল কিছু
শিখতে পারেনি। শিখতে
হলে কিছু
টাকা বিনিয়োগ
করতেই হবে,
সাথে বিনিয়োগ
করতে হবে
নিজের সময়।
ফেসবুক অ্যাডঃ নাদিয়া
এক সাথে
সব ধরনের
অ্যাড চালায়। পেইজে
টারগেটেড লাইক
বাড়ানোর ক্যাম্পেইন,
পোস্ট এঙ্গেজমেন্ট
এবং ম্যাসেজ
ক্যাম্পেইন চলছে একই সাথে।
কারণ সবগুলোই
দরকার, এবং
ফেসবুকের অ্যালগরিদম
যেখানে অরগানিক
রিচ কমিয়ে
দিচ্ছে সেখানে
বিজ্ঞাপন দিয়েই
যে টিকে
থাকতে হবে
তা বোঝা
হয়ে গেছে
নাদিয়ার।
একই সাথে
প্রফেশনাল সার্ভিস প্রভাইডার দ্বারাও অ্যাড
দিচ্ছে নাদিয়া।
ইনফ্লুয়েন্সার এঙ্গেজমেন্টঃ গণহারে
লাইভ শেয়ার
করার থেকে
একজন ভাল
ইনফ্লুয়েন্সারকে দিয়ে লাইভ করিয়ে অনেক
বেশি উপকার
পাচ্ছে নাদিয়া। ১০০
শেয়ার থেকে
১০টা ম্যাসেজ
আসলেই নাদিয়া
খুশী।
যেহেতু এক
ইনফ্লুয়েন্সার দিয়ে বার বার লাইভ
করানো গতানুগতিক
হয়ে যাবে
তাই অনেকের
সাথেই কাজ
করে নাদিয়া,
তবে অবশ্যই
যাচাই করে।
কন্টেন্ট প্ল্যানিংঃ নাদিয়া
চেষ্টা করে
ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট এবং সেলিং কন্টেন্ট
এর একটি
ব্যালেন্স তৈরি করতে। ইনফরমেটিভ
কন্টেন্ট বলতে
পণ্য এবং
সার্ভিস সংক্রান্ত
বিভিন্ন পোস্ট
যা থেকে
আপনার কাস্টমার
লাভবান হবেন। উদাহরণস্বরূপ,
আপনি যদি
অনলাইনে ফার্নিচার
বিক্রি করেন
আপনি “কিভাবে
ফার্নিচার এর যত্ন নিতে হয়”
এ ব্যাপারে
পোস্ট দিতে
পারেন।
এতে করে
আপনার পেইজের
অডিয়েন্স এর সংখ্যা বাড়বে এবং
পেইজের অরগানিক
রিচ বাড়বে। এঙ্গেজিং
কন্টেন্ট বুঝতে
হলে প্রথম
দিকে নানান
ধরণের পোস্ট
দিয়ে দেখতে
হবে অডিয়েন্স
কিভাবে রেসপন্স
করে।
নাদিয়া বিভিন্ন
কন্টেস্ট, গিভঅ্যাওয়ে, চ্যালেঞ্জ ইত্যাদির মাধ্যমেও
পেইজের এঞ্জেজমেন্ট
বাড়ানোর চেষ্ট
করে যায়।
নিজের দায়িত্ব পৃথক
করাঃ নাদিয়া
যখন দেখল
তার পেইজে
অনেক ম্যাসেজ
এবং পোস্টের
পরিমাণও বাড়বে,
তাই সময়
বুঝে দুই
জন কর্মী
রাখে নাদিয়া। যাতে
পোস্ট দিয়ে
এবং প্রাইস
কত তার
উত্তর দিতে
গিয়ে নিজের
সময় না
নষ্ট হয়। বরং
সে ফ্রি
থাকলে চিন্তা
করতে পারবে
কিভাবে ব্যবসায়টাকে
বড় করা
যায়, কিভাবে
নিজের গণ্ডিটাকে
বাড়ানো যায়।
এভাবেই এগিয়ে চলে
নাদিয়া।
গল্পের নাদিয়ার
মত অনেক
নাদিয়াই আছে
আমাদের আশেপাশে। কেউ
টিকে থাকতে
পেরেছে, কেউ
পারেনি।
এই পথচলা
সহজ নয়,
তবে উদ্যোক্তা
হওয়ার মাঝে
আছে মুক্তি,
আছে নিজের
মত করে
চলার স্বাধীনতা। তাই
থেমে গেলে
চলবে না,
শুধু চিন্তা
করলেই হবে
না।
শুরু করে
দিতে হবে।
সকল সংগ্রামী এবং
সফল নাদিয়াদের
জন্য শুভ
কামনা রইল।
No comments